Breaking

নতুন ক্রেডিট কার্ড নেয়ার পর যে ৬টি কাজ অবশ্যই করবেন

অনলাইন ও অফলাইনে কেনাকাটা করার জন্য ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। এগুলো “প্লাস্টিক মানি”হিসেবেও পরিচিত। ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড দেখতে এক রকম হলেও এদের মধ্যে ব্যাসিক পার্থক্য আছে। ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে হলে আপনার ব্যাংক বা ফিনান্সিয়াল একাউন্টে আগে থেকে টাকা জমা করে রাখতে হবে। অর্থাৎ এটা প্রিপেইড।

ক্রেডিট কার্ড
অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ড হলো পোস্ট পেইড- আগে ব্যবহার,পরে টাকা জমা।
এর সাথে সাথে আরো অনেক ছোটখাটো পার্থক্য আছে যা অন্য একটি পোস্টে বিস্তারিত আলাপ করার আশা রাখছি।অনেকেই নতুন ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড তুলে কীভাবে ব্যবহার শুরু করবেন সে ব্যাপারে দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েন। আপনি যাতে এরকম কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন,সেজন্যই এই পোস্ট।

১। কার্ডটি এক্টিভেশনঃ
ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড যেখান থেকেই নিন নাক কেনো অবশ্যই আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে আপনার কার্ডটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী।প্রয়োজনে আপনি যেই ব্যাংকের কার্ড তাদের হেল্পলাইনে ফোন করে নিশ্চিত হতে পারেন।সাধারনত কার্ড নেয়ার ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই এক্টিভ করে দেয়া হয়।

২।পিন সংগ্রহঃ
এটিএম বুথ এবং দোকানে POS (পয়েন্ট অব সেল) এর মাধ্যমে কেনাকাটার জন্য ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের পিন নাম্বার দরকার হবে। এটা সাধারণত চার সংখ্যার হয়ে থাকে। এই পিন নাম্বার গোপনীয়,যা কারো সাথে শেয়ার করা ঠিক নয়।সবচেয়ে ভালো হয় যদি পারেন ব্যাংক থেকে দেয়া পিন পরিবর্তন করে আপনার নিজস্ব পিন দিন।পিন পরিবর্তনের নিয়ম এর জন্য ব্যাংক এর সহায়তা নিন।
তবে পিন নম্বরের যে খাম দেয়া সেটি কোনোভাবে খোলা হাতে পেলে অবশ্যই সাথে সাথে ব্যাংকে যোগাযোগ করুন।
৩।কার্ড খরচ ও শর্তসমূহ জানুনঃ

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন।সব ব্যাংকের ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড এর খরচ বা ব্যায়ভার একই নয়।তাই আপনার সামর্থ্যের এবং পছন্দের ব্যাংকের কার্ডটি নেয়ার আগে অবশ্যই তার বার্ষিক বা মাসিক খরচ জেনে নিন।সাথে সাথে ব্যবহারবিধি ভালোভাবে পড়ে নিন যাতে করে কার্ড ব্যবহারকালে আপনাকে অযথা কোনো সমস্যায় না পরতে হয়।এছাড়াও ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ওপর বিভিন্ন শর্ত ও চার্জ প্রযোজ্য হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ,আপনার কার্ডটি যদি “মাস্টারকার্ড”নেটওয়ার্কের হয়ে থাকে,তাহলে “মাস্টারকার্ড”চিহ্নিত এটিএম বুথ কিংবা POS অথবা ওয়েবসাইটে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। যদি “ভিসা”নেটওয়ার্কের হয়,তাহলে ভিসা চিহ্নিত বুথ/পস ও সাইটে এটি ব্যবহার করা যাবে। তাই এ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।প্রতিবার বা প্রতিদিন সর্বোচ্চ কী পরিমাণ ট্র্যানজেকশন করা যাবে তাও জেনে নিন। ক্রেডিট কার্ডের মাসিক ট্রানজকেশন লিমিট খেয়াল রাখুন। অন্যথায় বিল পরিশোধ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে পারেন।

৪।পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্টঃ
আপনি যদি বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া কার্ড দিয়ে দেশের বাইরের কোনো ওয়েবসাইট কিংবা এটিএম বুথ/POS এ লেনদেন করতে চান,তাহলে আপনার পাসপোর্টে এই কার্ডের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ এন্ডোর্স করিয়ে নিতে হবে। এটা রাষ্ট্রীয় নিয়ম।
পাসপোর্ট না থাকলে এই এন্ডোর্সমেন্ট ও এ ধরনের লেনদেন আপনি করতে পারবেন না। আপনার পাসপোর্ট নিয়ে ডেবিট/প্রিপেইড কিংবা ক্রেডিট কার্ড সেবাদাতা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সেখানে এই এন্ডোর্সমেন্ট করাতে পারবেন। সাধারণত ১ বছরের জন্য এন্ডোর্সমেন্ট করানো হয়।তবে এটা অটোরিনিউ করারও সুযোগ আছে। সর্বোচ্চ কত ডলার এন্ডোর্স করানো যাবে।তারও একটা সীমা আছে।যা ব্যাংকে গেলেই জানতে পারবেন।

৫।প্রথম পেমেন্ট
অনলাইন পেমেন্ট যত সহজ আবার ততই কঠিন। অনেক সাইট আছে যেগুলো হুট করে একটা কার্ড দিলেই নিয়ে নেয়না। যেমন ফেসবুক ও ডিজিটাল ওশানের কথাই ধরুন। তারা অনেক সময় কার্ড মালিকের আরও কিছু তথ্য জানতে চায়। প্রিপেইড কার্ডের ক্ষেত্রে এরকম হতে দেখেছি। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে এ ধরণের ঝামেলা একটু কম।
প্রথমবার পেমেন্টের আগে আপনার কার্ডের হেল্পলাইনে কল করে জেনে নিন যে এটি এখন পেমেন্ট করার জন্য উপযোগী কিনা।
বিদেশি সাইট হলে হেল্পলাইনে জিজ্ঞেস করুন যে কার্ডে পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট কার্যকর আছে কিনা এবং এভেইলেবল ডলার আপনার একাউন্টে আছে কিনা। সবকিছু ঠিক থাকলে পেমেন্ট পেইজে সকল তথ্য ঠিকভাবে যাচাই করে পে করুন।
বড় বড় সাইট,যেমনঃ ফেসবুক এড এর ক্ষেত্রে একবার কোনো কার্ডের তথ্য ভুল হলে ফেসবুক পরেরবার ওই কার্ডের সঠিক তথ্যও আর বিশ্বাস করতে চায়না। সুতরাং খুব সাবধান!

৬।কার্ড ব্যবহারে সতর্কতাঃ
বর্তমানে কার্ডের টাকা চুরি খুব যে কঠিন তা কিন্তু না।আমরা প্রায়ই খবরে এসব নিয়ে দেখতে পাই।সবচেয়ে বেশি  তথ্য চুরি হয় কার্ড দিয়ে পেমেন্ট এর সময়।এক্ষেত্রে আপনি নিজের কার্ডটি পাঞ্চ করবেন।কখনো একাধিকবার কার্ড পাঞ্চ করবেন না।অথেন্টিক দোকান ছাড়া পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে অধিক সাবধানতা অবলম্বন করুন।অনলাইনে কার্ডের ব্যবহার চেক করা যায়।প্রতিনিয়ত কার্ড এর এক্টিভিটি চেক করুন।কোন অবৈধ লেনদেন চোখে পড়লে সাথে সাথে হেল্পলাইনে ফোন করে জানান। বিশ্বস্ত সাইট/POS ছাড়া বেনামী কোনো জায়গায় কার্ড দিয়ে পেমেন্ট না করাই ভাল।এ ব্যাপারে সচেতন হোন।